প্রত্যাশার সীমাবদ্ধতা

0 comment 48 views

ধরুন কেউ আপনাকে বললেন, আপনি পরিমাণের অধিক প্রত্যাশা করছেন- তাহলে আপনি কি বুঝবেন? যে কোনো জিনিস একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে গচ্ছিত আছে, যেমন ধরুন ধান। দশ মণ ধান আপনার সামনে রাখা আছে। এই ধানের ওপর যে কোনো ভাবেই হোক আপনার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ধান তো আপনার একলার ফসল নয়। ধান ফলাতে আরও আরও লোকেদের সহযোগিতা দরকার হয়েছে, ফলে আরও একাধিক লোকেদেরও দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আপনি আর লোকেদের দাবিতে তাচ্ছিল্য ঢেলে দিয়ে বারো মণ ধান প্রত্যাহার দাবি যদি তোলেন, তাহলে এ দাবিকে কি বলা যাবে?
এ দাবিটা বুঝতে হলে আমাদেরকে প্রথমে প্রত্যাশা ব্যাপারটাকে বুঝতে হবে। প্রত্যাশা হলো আশা, আকাঙ্ক্ষা, নিশ্চয়তা কিংবা বিশ্বাস। তার মানে আপনি নিশ্চিত ভাবেই বিশ্বাস করে দাবি করছেন আপনার বারো মণ ধান পাওয়া উচিত। অথচ উৎপাদিত ধানের পরিমাণ দশ মণ। এবং এতে ইতোমধ্যেই আরও আরও লোকেদের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। তাহলে আপনার এই দাবিকে আমরা কি বলব? কিংবা ধরুন আমিই যদি এমন দাবি তুলি তাহলে আপনিই বা কি বলবেন?
আপনি খুব নিশ্চিত ভাবেই আমাকে বোধবুদ্ধিহীন বলে অভিহিত করবেন। আপনি আমার জায়গাতে এলে আমিও সেটাই করব। তো বোধ হলো চেতনা। তারমানে আপনার কিংবা আমার চেতনার অভাব রয়েছে। রয়েছে বুদ্ধিমত্তার অভাব। চেতনা তো চিন্তাশীল মানুষের জিনিস। যার ভেতরে চিন্তাশীলতা নেই তার কাছে চেতনা আশা করাটাও বাতুলতা। আর এ দুটা ব্যাপারই বুদ্ধিমান মানুষের কাছে আমরা আশা করি। যিনি জ্ঞাত তাঁকেই আমরা বুদ্ধিমান মানুষ বলে অভিহিত করি। মানে হলো তিনি তথ্যাভিজ্ঞ এবং শিক্ষিত। তিনি জানেন ধান এখানে দশ মণ আছে এবং এর সঙ্গে আরও আরও দাবিদারও আছে। ফলে তিনি কোনো ভাবেই বারো মণ ধান দাবি করতে পারেন না। যদি করেন তাহলে তিনি চেতনাহীন একটা অর্বাচীন।
এখন কথা হলো, যার মধ্যে চেতনা নেই তার সঙ্গে আপনি কেমন করে সামঞ্জস্যতা রেখে চলবেন?

Leave a Comment

You may also like

Copyright @2023 – All Right Reserved by Shah’s Writing