শব্দের গভীরে হারিয়ে যাওয়া এক কণ্ঠস্বর

— আমার বাল্যবন্ধু মিন্টুকে উৎসর্গ

0 comments 45 views 2 minutes read

সময় আমাদের অনেক কিছু শেখায়, অনেক কিছু কেড়ে নেয়।
কিন্তু কিছু অনুভব থেকে যায় জীবনের গভীরতর স্তরে—
যেখানে সময় ব্যর্থ, দূরত্ব ভঙ্গুর, আর স্মৃতি আশ্রয়।

আজ বাইশ বছর পর,
হঠাৎ একদিন শুনে ফেলি সেই চেনা কণ্ঠস্বর।
মিন্টু!
একটা নাম, যেটা উচ্চারণেই মনে পড়ে যায়
কাঠের বেঞ্চে পাশাপাশি বসা স্কুলবেলার দুপুরগুলো,
পিঁপড়েভরা টিফিন ভাগ করে খাওয়া,
দস্যিপনায় ভরা বিকেল, আর সন্ধ্যায় মা’র বকুনি শুনে পালিয়ে যাওয়া।

কতবার যে ভেবেছি—
এমন বন্ধুত্বের দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে ইচ্ছে করে,
তবু জীবন তো থেমে থাকে না,
বন্ধুরাও থেমে যায় তাদের নিজ নিজ পথের বাঁকে।
কোনো খোঁজ ছিল না,
কোনো নম্বর ছিল না হাতে—
তবুও তোকে ভুলিনি, মিন্টু।
তুই ছিলিস আমার হৃদয়ের গোপন কোণে রাখা
একটি অক্ষয়, অমলিন বন্ধুত্বের প্রতীক।

জানি না তোরা কেমন আছিস, কে কোথায় ব্যস্ত
তবু বিশ্বাস কর,
তোদের সবার জন্যই আমার মনে অজস্র ভালোবাসা জমা আছে।
কারও সঙ্গ পাইনি বহু বছর,
তবু এক ফোঁটা স্মৃতির জলে এখনও মন ভিজে যায়।

মিন্টু,
তোকে হঠাৎ শুনে মনে হলো—
বন্ধুত্ব কখনো শেষ হয় না,
শুধু সময়কে দিয়ে জায়গা ছেড়ে দেয়।

বন্ধুত্ব মানে শুধু একসঙ্গে থাকা নয়,
বন্ধুত্ব মানে—অদৃশ্য হলেও অনুভবযোগ্য এক টান,
যা দূরত্বের বাইরে দাঁড়িয়ে হাত ছুঁয়ে দেয় হৃদয়।

এই লেখাটি শুধু তোকে নয়,
আমাদের মতো সেইসব বাল্যবন্ধুদের জন্য
যারা হয়তো আলাদা হয়ে গেছে,
কিন্তু এখনো একে অপরকে হৃদয়ে ধারণ করে রাখে।

ভালো থাকিস বন্ধু। তোর মুখে যেন সবসময় সেই পুরোনো হাসিটা লেগে থাকে।
বন্ধুত্ব চিরজীব হোক—শুধু স্মৃতিতে নয়, অনুভবে।
ভালো থাকিস🤗ভালোবাসিস।

Leave a Comment

You may also like

Copyright @2023 – All Right Reserved by Shah’s Writing